মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ও বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সরকারি মজুদ থেকে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। আগামী মার্চে ২ লাখ ১০ হাজার টন চাল বাজারে ছাড়া হবে। দেশটির কৃষিমন্ত্রী তাকু এতোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নিক্কেইএশিয়া।
জাপানি কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘মজুদ চাল নিলামের মাধ্যমে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতে এসব চাল বাজারে আসতে পারে।’
সম্প্রতি জাপানে চালের দাম বেড়ে গেছে। এ ঘটনা ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে এতো বলেন, ‘প্রথমবারের মতো মজুদ চাল বিক্রি বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।’ জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নির্ধারিত চালের বেশির ভাগই গত বছরের ফসল। তবে এর মধ্যে কিছু ২০২৩ সালেরও হতে পারে।
গত বছর জাপানে চাল উৎপাদন ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন বেশি। তবে বিতরণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ১০ হাজার টন কম চাল ছিল। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, পাইকারি বিক্রেতা ও কৃষকরা দাম আরো বাড়ার প্রত্যাশায় চাল মজুদ করে রেখেছেন।
গত মাসে কৃষি মন্ত্রণালয় চালের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে মজুদ চাল ছাড়ার নীতি শিথিল করেছে। একই সঙ্গে ফলন কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
জাপান সরকার জানিয়েছে, কৃষি সমবায়সহ পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে মজুদ চাল বিক্রি করা হবে। তবে শর্ত হলো এক বছরের মধ্যে একই পরিমাণ চাল সরকার পুনরায় কিনতে পারবে, যাতে বাজারে চালের দামে ধস না নামে।